বই দিয়েই বদলানোর চেষ্টা, সাগরদীঘিতে শুরু বই মেলা
এডমিন

ছবি: সংগৃহীত

সাগরদীঘি, মুর্শিদাবাদ :-সাগরদীঘি কোনও শহর নয়। বইয়ের বড় বিপণি, নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ এখানে সীমিত। ঠিক এই বাস্তবতার মধ্যেই সাগরদীঘি বই মেলা হয়ে উঠছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এক সামাজিক উদ্যোগ। চার বছরের বিরতির পর ২০২৬ সালে ফের শুরু হওয়া এই বই মেলা মফস্সল এলাকার পাঠকদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
বই মেলার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই সেই বার্তাই স্পষ্ট করেছেন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ। তাঁর বক্তব্য, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সমাজ গঠনের দায়িত্বও পুলিশের। আজকের দিনে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের অংশ হলেও চিন্তার গভীরতা আসে বই থেকে। বই মেলার মতো উদ্যোগ তরুণদের সঠিক পথে ফেরাতে সাহায্য করে।”
পুলিশ সুপারের মতে, এই ধরনের আয়োজন মফস্সল এলাকায় ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক।
একই সুর শোনা গিয়েছে জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের কথাতেও। তিনি বলেন, “বই মানুষের মনন গঠনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শহরের বাইরে মফস্সল এলাকায় বই মেলার আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়।” সাংসদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ গ্রাম ও মফস্সলের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাগরদীঘির মতো এলাকায় বই মেলা মানে শুধুই বই কেনা নয়। এখানে বই মেলা হয়ে ওঠে মোবাইলের বিকল্প সামাজিক পরিসর। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, লেখক-পাঠকের মুখোমুখি হওয়া— সব মিলিয়ে বই মেলা তৈরি করে এক ভিন্ন সংস্কৃতি।
এই প্রেক্ষাপটে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে বই মেলার আয়োজনকে অনেকেই দেখছেন প্রশাসনের সামাজিক দায়বদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে। চার বছরের বিরতির পর ফের শুরু হওয়া এই মেলা তাই কেবল অতীতের ধারাবাহিকতা নয়— বরং মফস্সল সমাজে বই পড়ার সংস্কৃতি ফেরানোর এক সচেতন প্রয়াস।
প্রশ্ন একটাই— ফোনের পর্দায় বন্দি জীবনে, বইয়ের পাতায় ফেরার এই ডাক কতটা সাড়া ফেলতে পারে সাগরদীঘিতে?
খবরটি শেয়ার করুন:
এডমিন
সিনিয়র রিপোর্টার
আজকের এক্স-এর সিনিয়র রিপোর্টার। রাজনীতি, নির্বাচন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্রেকিং নিউজ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরিতে দক্ষ।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

