সাগরদীঘিতে বুথ স্তরে দুর্বল বাম–কংগ্রেস, সাংগঠনিক দৌড়ে এগিয়ে তৃণমূল
এডমিন

ছবি: সংগৃহীত
সাগরদীঘি, মুর্শিদাবাদ : সাগরদীঘি বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে সাংগঠনিক বৈষম্য। একদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও বাম–কংগ্রেস জোট বুথ স্তরে কার্যত সংগঠনহীন, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সংগঠনকে আরও মজবুত করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাম ও কংগ্রেসের বেশিরভাগ বুথ কমিটি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বহু বুথে নেই সক্রিয় কর্মী, নিয়মিত বৈঠক বা জনসংযোগ। নির্বাচনের সময় ছাড়া মাঠে নামার প্রবণতাও কম। ফলে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এই দুই দলের।
অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বুথ স্তরে সাংগঠনিক কাঠামোকে কার্যত “মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট”-এর আওতায় এনেছে। প্রতিটি বুথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী, উপভোক্তা প্রকল্পের তালিকা ধরে জনসংযোগ, এবং সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়মিত মাঠে থাকা—এই কৌশলেই তারা এগিয়ে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
বিশ্লেষকদের মতে, সাগরদীঘির মতো গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় বুথ স্তরের সংগঠনই নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি। সেখানে বাম–কংগ্রেসের সাংগঠনিক শূন্যতা ভবিষ্যৎ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা আন্দোলন নয়, ভোটের দিন ভোটারকে বুথ পর্যন্ত আনতে যে সংগঠন দরকার, সেই জায়গাতেই পিছিয়ে রয়েছে তারা।
তবে তৃণমূলের ক্ষেত্রেও সবটাই যে মসৃণ, তা নয়। দলের ভিতরে গোষ্ঠীকোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব মাঝে মাঝে প্রকাশ্যে আসছে। তবুও বিরোধীদের তুলনায় বুথ স্তরের সংগঠনে তারা অনেকটাই এগিয়ে—এ কথা মানছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাই।
সব মিলিয়ে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সাগরদীঘিতে যদি বাম–কংগ্রেস সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জোর না দেয়, তাহলে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিই ভোটের লড়াইয়ে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
খবরটি শেয়ার করুন:
এডমিন
সিনিয়র রিপোর্টার
আজকের এক্স-এর সিনিয়র রিপোর্টার। রাজনীতি, নির্বাচন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্রেকিং নিউজ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরিতে দক্ষ।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য লোড হচ্ছে...



